৩১ মে ২০১৯ - ০৪:৫২
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিতে কুদস দিবসের গুরুত্ব

আজ বিশ্ব কুদস দিবস। মুসলমানদের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস মুক্ত করণে মুসলমানরা এ দিবস পালন করে থাকে বিশ্বের মুসলমানরা।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইমাম খোমেনি (রহ.) এর আহবানে সাড়া দিয়ে প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে পালন করে থাকে বিশ্বের মুসলমানেরা। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ী এ দিবসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

এ দিবসটি তিনি কি চোখে দেখেন তা এখানে সংক্ষেপে উপস্থাপিত হল;

*কুদস দিবস; বাতিলের মোকাবিলায় হকের অবস্থানের দিন

কুদস দিবস; বাতিলের মোকাবিলায় হক ও অন্যায়ের মোকাবিলায় ন্যায়ের অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। কুদস দিবস; শুধু ফিলিস্তিন দিবস নয় বরং মুসলিম উম্মাহ দিবস। ঘাতক জায়নবাদ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বজ্রকণ্ঠের আওয়াজ তোলার দিন; যে ক্যান্সার বিশ্ব সম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে সৃষ্টি করেছে।

*প্রচণ্ড গরমে রোজাদার জনগণের রাস্তায় নেমে আসা মহান আল্লাহর বিশেষ ইশারা

এ গণপদক্ষেপের প্রতি আমি আস্থাশীল। আমি বিশ্বাসী যে, মহান আল্লাহর বিশেষ ইঙ্গিতে এটি সম্ভব হয়েছে। ((ید اللهِ مَعَ الجماعة))

*ফিলিস্তিনকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার পায়তারা রোধকারী

তারা দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে ফিলিস্তিনকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার পায়তারা করছে, ইসলামি বিপ্লব তাদের মুখে সজোরে চপেটাঘাত করেছে।

*যেদিন মজলুম ফিলিস্তিনীরা অনুভব করে জাতিসমূহ তাদের পাশেই আছে

ফিলিস্তিনী কয়েদীরা যেন নিজেদেরকে নিঃসঙ্গ মনে না করে, যাতে রুখে দাঁড়াতে পারে। ঐ নারী ও পুরুষেরা যেন অনুভব করে যে, আপনারা তাদের পেছনে আছেন, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

*অন্যান্য জাতির জন্য ইরানি জাতির আদর্শ হিসেবে আত্মঃপ্রকাশের দিন

বিশ্ব কুদস দিবস পালনের কর্ণধর হিসেবে ইরানের জনগণের উচিত এমন কিছু করা যাতে তা অন্যান্য জাতির জন্য আদর্শ হিসেবে গণ্য হয়। কারণ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলে আপনাদের অনুকরণেই কুদস দিবস পালন করে থাকে।

*দেশ ও জাতির নিরাপত্তা এবং বিপ্লবের ফসল রক্ষার দিন

কুদস দিবস আমাদের দেশের নিরাপত্তার সহায়ক হিসেবেও বিবেচিত। এটা সকলের জানা উচিত যে, কুদস দিবসে যারাই রাস্তায় নেমে আসেন, মূলতঃ তারা দেশ ও জাতির নিরাপত্তা এবং বিপ্লবের ফসল রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন।

*ফিলিস্তিনকে ভুলিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার দিন

কুদস দিবস, অত্যন্ত গুরুত্ববহ দিনগুলোর একটি। বহুবছর ধরে অনবরত কুদসের বিষয়টিকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে কুদস দিবস এই ষড়যন্ত্রের বুকে আঘাত হানা একটি তীর।

*যে দিনে মুসলমানরা নিজেদের কথাগুলোকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে

কুদস দিবস, মুসলমানদের পরীক্ষার দিন। কুদস দিবস হল সেদিন, যেদিন মুসলমানরা অফিসিয়াল কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতা ছাড়াই নিজেদের কথাগুলোকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করে থাকে।

*সঠিকভাবে কুদস দিবস পালন জায়নবাদীদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করবে

ইনশা আল্লাহ্ যদি মুসলিম বিশ্ব সঠিকভাবে কুদস দিবসকে পালন করে এবং এ দিনটিকে জায়নবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নেয়, তবে শত্রুদেরকে অনেকাংশ পরাজিত এবং তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করতে সক্ষম হবে।

*মুসলিম উম্মাহর শরীরে রক্ত সঞ্চালনের দিন

এ অত্যন্ত গভীর ও অর্থবহ পদক্ষেপ; এটি শুধু একটি র‌্যালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যারা ফিলিস্তিনকে ভুলিয়ে দিতে চায় তাদের চাওয়ার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর শরীরে রক্ত সঞ্চালনের দিন।#